Advertisement
অক্টোবর ৬, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে আমদানি, ৮.২৫ টন তামাক ও ৯.২৬ টন সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার জব্দ

0
7

আব্দুল আজিজ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম বন্দরে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ও আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে আনা একটি সন্দেহজনক চালান শনাক্ত করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। চালানটির কায়িক পরীক্ষায় ঘোষণার সঙ্গে ব্যাপক অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে। এতে প্রায় ৮ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন তামাক বা তামাকসদৃশ সামগ্রী, বিভিন্ন রঙের সন্দেহজনক পাউডারজাত পদার্থ এবং প্রায় ৯ দশমিক ২৬ মেট্রিক টন স্ক্র্যাপ পেপার পাওয়া গেছে।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে চালানটির কায়িক পরীক্ষা করা হয়। এতে দুটি হাউজ বিল অব ল্যান্ডিং (বি/এল)-এর আওতায় মোট ২ হাজার ৪০ প্যাকেজে ১৭ হাজার ৫১৩ দশমিক ৪ কেজি পণ্য পাওয়া যায়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, কলকাতা থেকে ‘এমভি উদ্দিপন এক্সপ্রেস’ জাহাজে করে চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। জাহাজটি গত ২০ সেপ্টেম্বর কলকাতা থেকে যাত্রা করে এবং ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। একই মাস্টার বি/এলের অধীনে দুটি হাউজ বি/এলের মাধ্যমে এসব পণ্য আমদানি দেখানো হয়।

প্রথম হাউজ বি/এলে পণ্যের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল ‘পান মশলা এবং জর্দা’। এতে ৪৭৩ প্যাকেজের মোট ওজন ৮ হাজার ৯৭৪ কেজি উল্লেখ করা হয়। তবে কায়িক পরীক্ষায় ৪৭০ প্যাকেজে মোট ৮ হাজার ২৫০ দশমিক ৪ কেজি তামাক বা তামাকসদৃশ সামগ্রী পাওয়া যায়।

এসব পণ্যের মধ্যে ডার্ক ব্রাউন রঙের ৪২১ প্যাকেজে ৭ হাজার ৩২৫ দশমিক ৪ কেজি, ব্রাউন রঙের ৩১ প্যাকেজে ৫২৭ কেজি, গ্রে রঙের ১৩ প্যাকেজে ২৭৩ কেজি এবং সাদা রঙের পাঁচ প্যাকেজে ১২৫ কেজি পণ্য রয়েছে।

কাস্টমসের কায়িক পরীক্ষার সময় এসব সামগ্রীর মধ্যে বিভিন্ন রঙের পাউডারজাত পদার্থও পাওয়া যায়। বাহ্যিকভাবে এগুলো মাদকদ্রব্যের মতো সন্দেহজনক বলে প্রতীয়মান হলেও, এসব পদার্থে মাদক বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ কিংবা নিয়ন্ত্রিত উপাদান রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রাসায়নিক ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষার পরই এসব পদার্থের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে এনবিআর।

অন্যদিকে, দ্বিতীয় হাউজ বি/এলে পণ্যের ঘোষণা দেওয়া হয় ‘প্রিন্টেড পেপার ক্যাটালগ’ হিসেবে। ওই বি/এলে ১ হাজার ৫৭০ প্যাকেজের মোট ওজন ৯ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৬০ কেজি দেখানো হয়েছিল। কিন্তু কায়িক পরীক্ষায় এসব প্যাকেজ থেকে পাওয়া যায় ৯ হাজার ২৬৩ কেজি বা প্রায় ৯ দশমিক ২৬ মেট্রিক টন সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার।

ফলে চালানটিতে ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের প্রকৃতি ও শ্রেণিবিন্যাসে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য ধরা পড়ে। এ ঘটনায় চালানটির প্রকৃত উৎস, আমদানির পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। চালানটির নথিতে আমদানিকারক হিসেবে ‘অথয় এন্টারপ্রাইজ’-এর নাম ব্যবহার করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন, তিনি বা তার প্রতিষ্ঠান এই আমদানির বিষয়ে সম্পূর্ণ অনবহিত। এমনকি চালানটির সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেছেন তিনি।

অথয় এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারীর আশঙ্কা, কোনো অসাধু চক্র তার প্রতিষ্ঠানের নাম ও আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে চালানটি দেশে এনেছে। প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন।

এনবিআর জানিয়েছে, কায়িক পরীক্ষায় পাওয়া পণ্য, আমদানির ঘোষণাপত্র এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য—সবকিছু যাচাই করে চালানটির প্রকৃত আমদানিকারক ও পণ্যের প্রকৃতি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে সন্দেহজনক পাউডারজাত পদার্থের রাসায়নিক ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর এসব পদার্থের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে।

চালানটিতে পণ্য ঘোষণায় বড় ধরনের অসামঞ্জস্য এবং অন্য প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহারের অভিযোগ থাকায় পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...