Advertisement
অক্টোবর ২৩, ২০২৬

রাউজানে পুলিশের অভিযানে অস্ত্র-গুলিসহ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার, আহত ১২ পুলিশ সদস্য

0
1

আব্দুল আজিজ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের রাউজানে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে পুলিশের গুলিবিনিময়ে ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দিলদার হোসেন (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে উপজেলার ৮ নম্বর কদলপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মো. জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম এবং মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বসের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি ও আদায় করে আসছিল। সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর তারা আবু বক্কর চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবি করে।

বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ার পর চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম রাউজান থানা পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে জানে আলমের বসতঘরের সামনে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘরের ভেতরে থাকা জানে আলম (৪২), মোহাম্মদ আজিজ (৫২), দিলদার হোসেন (৩৭), মো. রুবেল (২৭), মো. মামুন-অর-রশিদ ওরফে মামুন (৩৫) এবং মো. বাঁচা (৪৫)সহ অন্যরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ সময় পুলিশ সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সংঘর্ষে এসআই মো. জান্নাতুন নাঈম রাজন, এসআই মো. খোরশেদ আলম, এসআই মো. বায়েজিদ মৃধা, এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম, এএসআই মো. জুয়েল চন্দ্র বিশ্বাস, এএসআই মো. রবিউল হোসেনসহ মোট ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।

অভিযানকালে দিলদার হোসেনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়। অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তির হেফাজত ও তার দেখানো স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে—একটি দোনলা বন্দুক, একটি একনলা কাটা বন্দুক, ১১৯ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলি, ছয় রাউন্ড সীসা কার্তুজ, চারটি রামদা, দুটি কটি এবং গুলি রাখার দুটি পাউচ।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তি ও পলাতক সহযোগীদের সংঘবদ্ধ অস্ত্রধারী অপরাধীচক্রের সদস্য হিসেবে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে একই ইউনিয়নের কদলপুর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি এলজি, দুই রাউন্ড সীসা কার্তুজ, একটি রামদা ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছিল।

রাউজান এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

```html
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...
```