হাটহাজারীতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানবিদেশি নম্বরে কল দিয়ে চাঁদা দাবি, অস্ত্রসহ ৭ সন্ত্রাসী গ্রেফতার
আব্দুল আজিজ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম নগরী ও হাটহাজারীর বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও চিকিৎসকের কাছে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে চাঁদা দাবি ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে একটি সন্ত্রাসী চক্রের ৭ সদস্যকে অস্ত্র ও মোবাইল ফোনসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, গ্রেফতাররা শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ডেভিড ইমন, কালা মোবারক, বড় সাজ্জাদ ও রায়হানের নাম ব্যবহার করে হাটহাজারী ও বায়েজিদ এলাকায় ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করত।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএম-এর নির্দেশনায় এবং হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোঃ তারেক আজিজের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে হাটহাজারী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাক আহম্মেদসহ পুলিশের একাধিক টিম অংশ নেয়।
পুলিশ জানায়, ৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ২টা থেকে টানা ২৪ ঘণ্টা হাটহাজারী, বায়েজিদ বোস্তামী ও খুলশী থানার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
সম্প্রতি হাটহাজারীর আমানবাজার এলাকার এক চিকিৎসককে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে ‘১০০ জন পুলিশ পাহারায় থাকলেও রক্ষা হবে না’ বলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে বড়দিঘীর পাড় এলাকার এক ব্যবসায়ীর কাছেও মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়। ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তে নামে পুলিশ।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নজরদারি এবং আগে গ্রেফতার হওয়া ডেভিড ইমন ও কালা মোবারককে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন—হাটহাজারীর খন্দকিয়া এলাকার কামরুল হাসান ওরফে সাগর (২৫), মোঃ রিকু (২৫), মোঃ মানিক (৪০) ও নুরুল আলম (৪০); বায়েজিদ বোস্তামী থানার জালালাবাদ এলাকার মোঃ তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত (২০); হাটহাজারীর ছিপাতলী এলাকার আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম মেম্বর (৪০) এবং চিকনদণ্ডী এলাকার আহমদ রেজা শাকিল (২৫)।
অভিযানকালে তাদের হেফাজত থেকে একটি তলোয়ার, একটি চাপাতি, একটি ছুরি, একটি টিপছোরা এবং চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহৃত বিদেশি নম্বরযুক্ত চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেফতারদের প্রায় সবার বিরুদ্ধেই বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে আহমদ রেজা শাকিলের বিরুদ্ধে অস্ত্র, হত্যাচেষ্টা, অপহরণ ও চাঁদাবাজিসহ মোট ৮টি মামলা রয়েছে। মোঃ মানিকের বিরুদ্ধে ২টি এবং সাগর, রিকু, রোহিত ও মাসুম মেম্বরের বিরুদ্ধে ৩টি করে মামলা রয়েছে।
হাটহাজারী থানা পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতাররা ডেভিড ইমন ও কালা মোবারকের কাছ থেকে নিয়মিত মাসিক বেতন পেত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তারা নিজেদের একটি পৃথক চক্র গড়ে তুলে বড় সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করে হাটহাজারী ও বায়েজিদ এলাকার বিত্তশালী ব্যক্তিদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করত।
গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে চক্রটির বাকি সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
