কাঁচপুরে নতুন ঠিকানা হচ্ছে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের
অনলাইন ডেস্ক:
রাজধানীর যানজট নিরসনে ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে আন্তঃজেলা বাসগুলো কাঁচপুরে স্থানান্তরের লক্ষ্যে নির্মাণাধীন কাঁচপুর বাস টার্মিনালের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় কাঁচপুর বাস টার্মিনাল এলাকায় নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁ) আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানসহ প্রকল্প পরিচালক, পরিকল্পনাবিদ, প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানান, রাজধানীর যানজট কমাতে আন্তঃজেলা বাসগুলো সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে দ্রুত সরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাঁচপুরে এই টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে। টার্মিনালটি নির্মাণের জন্য আগে ডোবা জায়গা বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। বর্তমানে সীমানাপ্রাচীর ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ চলছে।
তিনি জানান, টার্মিনালের সীমানাপ্রাচীরের প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। অভ্যন্তরীণ প্ল্যাটফর্ম নির্মাণের কাজ হয়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। পার্কিং, টিকিট কাউন্টার, অফিস কক্ষ, ড্রেনেজসহ অন্যান্য অবকাঠামোর কাজও পর্যায়ক্রমে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসক বলেন, স্থায়ী অবকাঠামো পুরোপুরি নির্মাণের আগে একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা করে কিছু আন্তঃজেলা বাস কাঁচপুর টার্মিনালে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন করা হবে।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১২ দশমিক ৬ একর জায়গার ওপর নির্মাণাধীন এ টার্মিনালে মোট ৪০৫টি বাস ধারণের সক্ষমতা থাকবে। এর মধ্যে পার্কিং অবস্থায় ৩৭৮টি বাস রাখা যাবে এবং কাউন্টারের সামনে যাত্রী ওঠানামার জন্য ২২টি বাস রাখার ব্যবস্থা থাকবে।
এ ছাড়া টার্মিনালে পাঁচটি ওয়াশিং রুম, বাস পরিষ্কারের জন্য ৪০টি ওয়াশিং স্পেস, ৪৮০ জন যাত্রীর অপেক্ষার ব্যবস্থা, ১০৬টি টিকিট কাউন্টার, পুরুষদের জন্য ১০টি এবং নারীদের জন্য ৬টি টয়লেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন বাস কোম্পানির অফিসের জন্য ৬৫ বর্গমিটার এবং ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল কক্ষের জন্য ৫০ বর্গমিটার জায়গা রাখা হবে।
মো. আবদুস সালাম আরো বলেন, নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে পর্যায়ক্রমে আন্তঃজেলা বাসগুলো কাঁচপুরে আনার চেষ্টা করা হবে। এতে রাজধানীতে আন্তঃজেলা বাসের চাপ কমানোর পাশাপাশি যাত্রীদের যাতায়াত ব্যবস্থাও আরও সুশৃঙ্খল হবে।
তিনি জানান, কাঁচপুর বাস টার্মিনালের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছে এবং দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
