কানাডাকে ঘিরে ইইউর উদ্যোগ, ট্রাম্পের শুল্কের হুমকি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
কানাডাকে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ করার প্রস্তাব দেওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) ‘খুব কঠোর শুল্ক’ আরোপ ও বাণিজ্য বন্ধের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই ধারণাকে ‘হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের বলেন, এই পদক্ষেপটি একটি ‘শত্রুতামূলক আচরণ’। তিনি ইইউর ওপর ‘খুব কঠোর শুল্ক আরোপ বা বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে পারেন’। তিনি আরো যোগ করেন, “যদি উদ্দেশ্য ভালো হয়, তাহলে ঠিক আছে। আর যদি খারাপ উদ্দেশ্যে থাকে, তাহলে আমরা ইউরোপের ওপর অনেক ভারী শুল্ক আরোপ করব।”
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লিয়েন কানাডাকে ইইউর প্রথম সহযোগী সদস্য হওয়ার আমন্ত্রণ জানান। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
ভর ডের লিয়েন কার্নির কাছে প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি ক্ষেত্রে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রস্তাব রাখেন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে তিনি বলেন, যেহেতু গণতন্ত্রগুলো ‘আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থার ফাটলের’ মুখোমুখি, তাই ব্রাসেলস ও অটোয়ার আরও কাছাকাছি আসা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি, বাণিজ্যে নতুন সমীকরণ
কানাডা ও ইইউর মধ্যে ইতিমধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি ও একাধিক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি রয়েছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে ফিরে আসার পর পুরোনো মিত্রদের ওপর শুল্ক বাড়ানোর পাশাপাশি বারবার কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫২তম অঙ্গরাজ্যে বানানোর কথা বলায় ও ইইউর কঠোর সমালোচনা করায়, এই দুই পক্ষ আরো কাছাকাছি চলে আসছে।
প্রতিরক্ষায় নতুন সমীকরণ
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর থেকে প্রতিরক্ষা নির্ভরতা কমিয়ে বৈচিত্র আনার ইঙ্গিত হিসেবে কার্নির কার্যালয় বুধবার এক ঘোষণায় জানায়, কানাডা আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বাধীন ‘জয়েন্ট এক্সপেডিশনারি ফোর্স’ (জেডইএফ) সামরিক জোটে যোগদানের জন্য আবেদন করেছে।
এই বাহিনীটি একটি দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল সামরিক অংশীদারিত্ব, যা ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে এবং সুইডেনসহ ১০টি উত্তর আটলান্টিক ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত।
বুধবার কার্নি এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম এভারটন ফুটবল ক্লাবে একসঙ্গে ম্যাচ উপভোগ শেষে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। দুই নেতা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার ও এআই প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতি অনুযায়ী, উভয় প্রধানমন্ত্রীই ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।
২৭ সদস্যবিশিষ্ট ইইউতে এর আগে কখনো কোনো সহযোগী সদস্যপদ ছিল না। তবে নরওয়ে, আইসল্যান্ড ও সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে তাদের গভীর অর্থনৈতিক একীকরণের ইতিহাস রয়েছে। সহযোগী সদস্যপদের প্রকৃত অর্থ কী দাঁড়াবে এবং ইইউ একক বাজারের সঙ্গে কানাডার সম্পর্কের ক্ষেত্রে এর প্রভাব কী হবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়।
বুধবার ভন ডের লিয়েন বলেন, এখন সময় এসেছে কেবল বাণিজ্যভিত্তিক সহযোগিতা থেকে বেরিয়ে এসে একটি বৃহত্তর ‘ভবিষ্যতের জোট’ গড়ে তোলা এবং কানাডার সঙ্গে সম্পর্কে সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে যাওয়া।
তিনি বলেন, “আমরা ইন্টেলিজেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং নিয়ে কাজ করব। আমরা একটি প্রযুক্তি জোট তৈরি করব। আমরা প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তিগুলোকে একীভূত করব। আমরা আর্কটিককে একটি প্রধান যৌথ প্রকল্পে রূপান্তর করব।”
তিনি জ্বালনি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ, ব্যাটারি, এআই, সাইবার এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে যৌথ সহযোগিতার অন্যান্য খাত হিসেবে উল্লেখ করেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, “এই অংশীদারিত্ব অন্য কারো বিরুদ্ধে নয়, বরং আমাদের যৌথ শক্তির জন্য।”
তথ্যসূত্র: গার্ডিয়ান
