মেহেন্দিগঞ্জ নয়াখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অতিথি এক শিক্ষক’র বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের গুরুতর অভিযোগ
মেহেন্দিগঞ্জ প্রতিনিধি:
শিক্ষক হলো মানুষ গড়ার কারিগর এবং সকলের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র। কিন্তু সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তারই কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যখন অশোভন আচরনের অভিযোগ তোলেন তখন শিক্ষকের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ভক্তি দুটোই কমে যায়।
এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে বরিশাল জেলার দ্বীপ উপজেলা মেহেন্দিগঞ্জের উত্তর উলানিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত নয়াখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।
সেখানকার অতিথি শিক্ষক মিরাজ হোসাইনের বিরুদ্ধে ঐ স্কুলের ৭ম শ্রেনীর তিন নারী শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নেছার উদ্দিন শফির নিকট তাদের সাথে হওয়া অশোভন আচরনের প্রতিকার চেয়ে একটি আবেদন করেছে।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে গতমাসে কেন্দ্রিয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি নেছার উদ্দিন শফিকে সভাপতি করে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করে দেন।
৩০ সেপ্টেম্বর, বুধবার, সভাপতির দায়িত্ব পেয়ে প্রথমবারের মতো ঐ স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে সেসময় ৭ম শ্রেনীর তিন নারী শিক্ষার্থী আবিদা,মারজিয়া ও শারমিন স্বাক্ষরিত একটি দরখাস্ত সভাপতি বরাবরে হস্তান্তর করেন তারা।
সেখানে তারা উল্লেখ করেন,ঐ অতিথি শিক্ষক মিরাজ হোসাইন ক্লাশ নেবার সময় তাদের সাথে নানা রকম অশোভন আচরন করেন এবং তাদের গায়েও হাত তোলেন,এমন কি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন,যা তাদেরকে ভীষন কষ্ট দেয়। তাই তারা এই অতিথি শিক্ষকের ক্লাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই বিষয়ে নয়াখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সৈয়দ হাসান ঈমামের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান,মিরাজ হোসাইন তার স্কুলের শিক্ষক নয়,সে একজন কর্মচারী মাত্র। স্কুলের কম্পিউটারে টুকটাক কাজকর্ম করেন তিনি। তবে স্কুলের ক্লাশ রুটিনে অতিথি শিক্ষক মিরাজ হোসাইনের নামে ৭ম শ্রেনীর গনিত ও আইসিটির ক্লাশ বরাদ্ধ রাখতে দেখা গেছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আরো জানান, বুধবার স্কুলের নবনিযুক্ত সভাপতি শিক্ষার্থীদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় ৭ম শ্রেনীর তিন শিক্ষার্থী সভাপতি মহোদয়ের কাছে একটি দরখাস্ত প্রদান করেন।
সভাপতি মহোদয় বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে অতিদ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য বলেন। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাবার পর দোষী প্রমানিত হলে ম্যানেজিং কমিটির সভার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
অপরদিকে অভিযুক্ত অতিথি শিক্ষক মিরাজ হোসাইনের নিকট মুঠোফোনে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছুই জানেন না। বৃহস্পতিবার স্কুলে অনুপস্থিত থাকার কারন জানতে চাইলে তিনি ছুটি নিয়েছেন বলে জানান।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নেসার উদ্দিন শফি’র মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবী দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি তদন্ত করে দোষী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে তারা একজোট হয়ে তাদের সন্তানদের সম্মান এবং নিরাপত্তার স্বার্থে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
