“মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে বরিশালের দপদপিয়া সেতু: সংস্কারের অভাবে চরম ঝুঁকিতে লাখো মানুষ”
এম কামরুজ্জামান (জয়), বরিশাল প্রতিনিধি:
ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কীর্তনখোলা নদীর ওপর নির্মিত শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত (দপদপিয়া) সেতুটি বর্তমানে চরম জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বড় ধরনের কোনো সংস্কার না হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি এখন দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের যাতায়াতের জন্য এক প্রকার ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উদ্বোধনের পর থেকে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে সেতুটির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। পিচ উঠে বড় বড় খানাখন্দ: সেতুটির ওপরের কার্পেটিং ও পিচ ঢালাই অধিকাংশ স্থান থেকে সম্পূর্ণ উঠে গেছে। এর ফলে পুরো সেতু জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দের। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে যায়, যার ফলে চালকেরা গর্তের গভীরতা বুঝতে না পেরে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
ঝুঁকিপূর্ণ এক্সপেনশন জয়েন্ট: সেতুর বিভিন্ন স্প্যানের সংযোগস্থলে থাকা লোহার পাত বা এক্সপেনশন জয়েন্টগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে, আবার অনেক জায়গা থেকে দুষ্কৃতকারীরা লোহার পাত খুলে নিয়ে গেছে। এই ফাঁকা অংশগুলোর ওপর দিয়ে ভারী যানবাহন পারাপারের সময় বিকট শব্দে তীব্র ঝাঁকুনির সৃষ্টি হয়।
এতে একদিকে যেমন যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকছে, অন্যদিকে সেতুর মূল কাঠামোরও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হচ্ছে। অন্ধকার ও নৌ-সংকেতহীনতা: সেতুতে থাকা শতাধিক লাইটপোস্টের বেশিরভাগেরই বাতি সচল না থাকায় রাতের বেলা পুরো সেতুটি ঘুটঘুটে অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে।
শুধু তাই নয়, সেতুর নিচে কোনো কার্যকর নৌ-সংকেত বা সিগন্যাল বাতি নেই। ফলে কীর্তনখোলা নদী দিয়ে চলাচলকারী বড় বড় লঞ্চ, জাহাজ বা কার্গো অন্ধকারে যেকোনো সময় সেতুর পিলারে ধাক্কা দেওয়ার বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ক্ষোভ ও সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়: সেতুর এই বেহাল দশার কারণে অতি সম্প্রতি বাস ও মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীসহ ৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দা, সাধারণ যাত্রী ও পরিবহণ চালকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ মাঝে মাঝে কিছু অংশে তড়িঘড়ি করে জোড়াতালির সংস্কার কাজ করলেও, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে মাত্র ১৫-২০ দিনের মধ্যেই তা আবার উঠে যায় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নিয়মিত চলাচলকারী চালক ও যাত্রীরা জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেতুটির জোড়াতালি না দিয়ে একটি স্থায়ী ও টেকসই সংস্কার করা না হলে, যেকোনো মুহূর্তে এটি ধসে পড়ে দক্ষিণ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নসহ আরও বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে।
