মিশরে জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপিকাসহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত
সবার সংবাদ ডেস্ক:
মাদক উৎপাদন ও বিভিন্ন দেশে পাচারের অভিযোগে মিশরের জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপিকা সারাহ খলিফাসহ ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন কায়রোর একটি আদালত।
আসামিদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র গঠন, সিনথেটিক মাদক তৈরির উপকরণ বিদেশ থেকে আমদানি এবং অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখার অভিযোগও আনা হয়েছে।
৩৯ বছর বয়সী সারাহ খলিফা মিশরের একটি টেলিভিশনে নিরাপত্তা ও অপরাধবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘মিশন ইমপসিবল’ উপস্থাপনার মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পান। পাশাপাশি তিনি একটি কসমেটিক সার্জারি ক্লিনিক এবং অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন ইভেন্ট আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মালিক।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ইজিপ্টশিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্টসহ দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, সারাহ খলিফা ও অপর ১১ আসামি মাদক তৈরির উপকরণ সংগ্রহ ও তা পাচারের উদ্দেশ্যে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র গড়ে তুলেছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে লাইসেন্সবিহীন আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখা ও বহনের অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে বলে আদালত উল্লেখ করেন।
মামলার তদন্তে বিপুল পরিমাণ মাদক ও মাদক তৈরির কাঁচামাল জব্দ করা হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, অভিযানে ৭৫০ কেজির বেশি মাদক ও কাঁচামাল পাওয়া যায়। একই সঙ্গে মাদক তৈরির জন্য ব্যবহৃত দুটি অ্যাপার্টমেন্টকে কথিত ল্যাবরেটরি হিসেবে ব্যবহারের তথ্য মিলে। সেখান থেকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদও জব্দ করা হয়।
আদালত মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার আগে মিশরের গ্র্যান্ড মুফতির মতামত নেন। দেশটির আইনে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার আগে এ ধরনের ধর্মীয় মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিলের সুযোগ রয়েছে।
এদিকে পৃথক একটি মামলায় এক তরুণকে অপহরণ ও মারধরের অভিযোগে সারাহ খলিফাসহ কয়েকজনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মিশরে পূর্বপরিকল্পিত হত্যা, সন্ত্রাসবাদ ও ধর্ষণের মতো কয়েকটি গুরুতর অপরাধ এবং মাদকপাচারের মতো অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। মিশরীয় কমিশন ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে ৫৪১টি মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছিল।
