Advertisement
সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬

‘জেসিডি’ লেখা ঘিরে কুবির হলে উত্তেজনা, বহিষ্কার দুই শিক্ষার্থী

0
3

শিক্ষা ডেস্ক:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কাজী নজরুল ইসলাম হলে দেয়ালে ‘জেসিডি’ লেখা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারি হয়। এ ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে হল প্রশাসন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হলের ৪০৭ নম্বর কক্ষের বাইরে ‘জেসিডি’, ‘৪০৭’, ‘কি? খাবি? খুব আতাও’সহ বিভিন্ন লেখা লেখেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। এসব লেখার প্রতিবাদ জানান ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী মামুনুর রশীদ। এ নিয়ে হলের মেসেঞ্জার গ্রুপে তার সঙ্গে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের আকাশ রাজবংশী ও ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সোহাগ চৌধুরীর কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় মামুন তাদের ‘ছাত্রলীগ’ এবং তারা মামুনকে ‘গুপ্ত’ ট্যাগ দেন।

এরই জেরে ৫০৮ নম্বর কক্ষে গিয়ে মামুনুর রশীদকে মারধরের অভিযোগ ওঠে ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সোহাগ চৌধুরী, আইন বিভাগের ফয়সাল ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের আকাশ রাজবংশীর বিরুদ্ধে। এছাড়া, ইংরেজি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শনব দেবনাথ ও মারুফ আহমেদও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন মামুন।

মামুনুর রশীদ অভিযোগ করেন, “হলের ৪০৭ নম্বর কক্ষের বাইরের দেয়ালে ‘জেসিডি’, ‘৪০৭’, ‘কি? খাবি? খুব আতাও’সহ বিভিন্ন লেখা ছিল। এসব লেখা নিয়ে হলের মেসেঞ্জার গ্রুপে আলোচনা হচ্ছিল। একপর্যায়ে সোহাগ, ফয়সাল ও আকাশ তার কক্ষে গিয়ে তাকে মারধর করেন।” এ সময় জুনিয়র শিক্ষার্থী শনব ও মারুফও তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে, মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। তাদের দাবি, মামুনুর রশীদের সঙ্গে কথা বলতে তারা তার কক্ষে গিয়েছিলেন। কথা বলার একপর্যায়ে মামুন তাদের ধাক্কা দেন। পরে ফুলের টব ও দা নিয়ে তাদের ওপর হামলা করতে এলে আত্মরক্ষার্থে হাতাহাতি হয়েছে। তবে হল প্রভোস্টের উপস্থিতিতে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য নেওয়া হলে দা নিয়ে হামলার অভিযোগটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

অন্যদিকে, শনব দেবনাথ ও মারুফ আহমেদ দাবি করেন, তারা মারামারির সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য হল প্রভোস্টের কক্ষে উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এ সময় প্রভোস্ট কক্ষের বাইরে ইংরেজি বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শনব দেবনাথ ও মারুফ আহমেদের সঙ্গে অর্থনীতি বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইলিয়াস হোসেন শুভ ও হুমায়ুন রশিদের মারামারি হয়। এতে মারুফ আহমেদের মাথায় আঘাত লাগে এবং মাথা ফেটে যায়। পরে তাকে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে নেওয়া হয়।”

এ ঘটনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইলিয়াস হোসেন শুভ ও হুমায়ুন রশিদকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। তাদের বহিষ্কারের পরই হল থেকে তাদের বিছানাপত্র বাইরে ফেলে দেন ইংরেজি বিভাগের শনব দেবনাথ, ব্যবস্থাপনা বিভাগের রাফসান সামি ও মার্কেটিং বিভাগের সাদেক সাকের।

ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে হল প্রশাসন। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে কাজী নজরুল ইসলাম হলের হাউজ টিউটর মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম চৌধুরীকে। সদস্যসচিব করা হয়েছে সহকারী রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ময়নাল হোসেনকে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন হাউজ টিউটর খন্দকার ওয়ালীউল্লাহ ও জহিরুল ইসলাম বাবর। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট মো. হারুন বলেন, “হলের দেয়ালে জেসিডি লেখা নিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল। বিষয়টি সমাধানের জন্য তাদের নিয়ে প্রভোস্ট রুমে বসেছিলাম। কিন্তু, উভয় পক্ষের দাবি-দাওয়া মিলে না যাওয়ায় তখন সমাধান করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনা সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে রেফার করা হবে।”

তিনি বলেন, “আমরা আলোচনা করছিলাম। এমন সময় প্রভোস্ট রুমের বাইরে হঠাৎ মারামারি শুরু হয়। এতে ইংরেজি বিভাগের একজন শিক্ষার্থী মাথায় আঘাত পান। তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অর্থনীতি বিভাগের শুভ ও হুমায়ুনকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...