Advertisement
সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬

রাজশাহীতে হোটেলে গরুর মাংসের সঙ্গে ঘোড়ার মাংস মেশানোর অভিযোগ, নমুনা সংগ্রহ

0
1

আবু কাওসার মাখন, রাজশাহী ব্যুরো:

রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা বাজারের জনপ্রিয় ফাইসাল হোটেলে গরুর মাংসের সঙ্গে ঘোড়ার মাংস মিশিয়ে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এ অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন হোটেল মালিক ফাইসাল।

অভিযোগের পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার হোটেলটি পরিদর্শন করেছে উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ। এ সময় হোটেল থেকে কাঁচা ও রান্না করা মাংসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্য ঢাকার সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরিতে (সিডিআইএল) পাঠানো হবে।

সোমবার ফেসবুকে ১৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এতে ফাইসালের হোটেলে ভোজনরসিকদের ভিড় এবং কর্মচারীদের মাংস রান্না করতে দেখা যায়।

ভিডিওটির ক্যাপশনে দাবি করা হয়, হোটেলটিতে গরুর মাংসের সঙ্গে ঘোড়ার মাংস মিশিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এরপর বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে।

পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনুল আবেদীনের নেতৃত্বে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, ভেটেরিনারি সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা হোটেলটি পরিদর্শন করেন। ইউএনও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হোটেলটি পরিদর্শন করে কাঁচা ও রান্না করা মাংসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যাবে। অভিযোগ সত্য হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর অভিযোগের সত্যতা না মিললে অপপ্রচারের বিষয়টিও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন সোহরাব খান বলেন, নমুনাগুলো ঢাকার সিডিআইএলে পাঠানো হবে। পরীক্ষার মাধ্যমে মাংসটি গরুর নাকি অন্য কোনো প্রাণীর মাংস মেশানো হয়েছে, তা শনাক্ত করা সম্ভব। সাধারণত পরীক্ষার ফল পেতে চার-পাঁচ দিন সময় লাগে। বিশেষ ক্ষেত্রে এক সপ্তাহও লাগতে পারে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ জানান, নওহাটা এলাকার অন্যান্য মাংস বিক্রেতা ও কসাইদের বিষয়েও তথ্য নেওয়া হচ্ছে। হোটেলে মাংস কোথা থেকে সরবরাহ করা হয় এবং সরবরাহকারীরা কারা, সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় থাকবে। পাশাপাশি পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী নিয়মিত তদারকি করা হবে।

অভিযোগ অস্বীকার করে হোটেল মালিক ফাইসাল বলেন, নওহাটা হাটে ঘোড়ার মাংস তো দূরের কথা, জীবিত ঘোড়াই নেই। সেখানে ঘোড়ার মাংস বিক্রির প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর দাবি, ফেসবুকে একজন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওই পোস্ট দিয়েছেন। কেউ ঘোড়ার মাংস মিশিয়ে বিক্রির বিষয়টি প্রমাণ করতে পারলে তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার পাশাপাশি দোকান বন্ধ করে দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

এ ঘটনায় ফাইসাল পবা থানায় লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন, অভিযোগটি সত্য না মিথ্যা, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে গুজব ছড়িয়ে দোকানের সুনামহানির অভিযোগে ফাইসাল একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ সংবাদ
সর্বশেষ সংবাদ লোড হচ্ছে...