তিন বছরের সংসারের করুণ সমাপ্তি: ঝুলন্ত অবস্থায় মিলল সুমাইয়ার নিথর দেহ
আব্দুল আজিজ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
মাত্র ১৯ বছর বয়স সুমাইয়া আক্তারের। তিন বছর আগে ভালোবাসা আর নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে প্রবাসী মোহাম্মদ ফিরোজের সঙ্গে সংসার শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই সংসারের নিজ কক্ষেই রোববার সকালে মিলল সুমাইয়ার নিথর দেহ। মর্মান্তিক এ ঘটনায় হাটহাজারীর গড়দুয়ারা ইউনিয়নের বাড়ীর আনোয়ার আলি সরকার বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রোববার সকাল পেরিয়ে গেলেও সুমাইয়ার ঘরের দরজা না খোলায় তাদের সন্দেহ হয়। দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে একপর্যায়ে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন তারা।
এ সময় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় সুমাইয়াকে দেখতে পান স্বজনরা। পরে তাকে উদ্ধার করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। নিহত সুমাইয়া উত্তর মাদার্শা ইউনিয়নের তেহমনি এলাকার ইউসুফের মেয়ে। যে মেয়েকে একদিন স্বজনরা হাসিমুখে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে বিদায় দিয়েছিলেন, আজ সেই মেয়েকেই ফিরতে হলো নিথর দেহ হয়ে। এ ঘটনায় দুই পরিবারের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন দাবি উঠেছে। এক পক্ষ ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করলেও অন্য পক্ষ আত্মহত্যা বলে দাবি করছে। তবে প্রকৃত ঘটনা কী—তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। মাত্র ১৯ বছরের একটি তরতাজা প্রাণের এমন করুণ পরিণতি পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীকে গভীরভাবে শোকাহত করেছে।
একটি সংসারের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, ভুল বোঝাবুঝি কিংবা পারিবারিক সংকট যেন আর কোনো সুমাইয়ার জীবন কেড়ে না নেয়—এটাই সবার প্রত্যাশা। সুমাইয়ার মতো কোনো গৃহবধূর জীবনে যেন আর এমন নির্মম পরিণতি না আসে। প্রতিটি পরিবারে প্রতিষ্ঠিত হোক ভালোবাসা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও নিরাপদ সহাবস্থান।
