এসএসসি ফলে চট্টগ্রাম বোর্ডের রেকর্ড পতন, পাঁচ বছরে সবচেয়ে কম
অনলাইন ডেস্ক:
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের পতন হয়েছে। এবার এ বোর্ডে পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছর পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
পাসের হারের পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও কমেছে। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন। চলতি বছর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৫২ হাজার ৭৫৬ জন।
সোমবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পাঁচ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২২ সালে এসএসসিতে পাসের হার ছিল ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা কমে ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২৪ সালে কিছুটা বেড়ে হয় ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ। ২০২৫ সালে আবার কমে দাঁড়ায় ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশে। আর এবার বড় পতন ঘটে পাসের হার নেমে এসেছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে।
এবার এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। অনুপস্থিত ছিল ৪৬৩ জন এবং বহিষ্কৃত হয়েছে ১০ জন।
অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যাও গত পাঁচ বছরের মধ্যে এবার সর্বোচ্চ। ২০২২ সালে এ বোর্ডে অকৃতকার্য হয়েছিল ১৮ হাজার ৪৭০ জন। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা বেড়ে হয় ৩২ হাজার ৫৫৩ জন। ২০২৪ সালে কিছুটা কমে ২৪ হাজার ৯২৫ জন হলেও ২০২৫ সালে আবার বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯ হাজার ২৫৭ জনে। চলতি বছর এ সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫২ হাজার ৭৫৬ জন।
শুধু এক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২২ সালে এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল ১৪ হাজার ১৯৪ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৯ দশমিক ০৩ শতাংশ। এবার এক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৮ হাজার ৭৯১ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ২২ দশমিক ০৯ শতাংশ।
মানবিকে সবচেয়ে বেশি পতন
বিভাগভিত্তিক ফলাফলেও এবার বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগে ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এবার তা কমে হয়েছে ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে গত বছর পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬০ দশমিক ১২ শতাংশে।
তবে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে মানবিক বিভাগে। গত বছর এ বিভাগে পাসের হার ছিল ৫৫ দশমিক ০২ শতাংশ। এবার তা কমে হয়েছে মাত্র ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ।
জিপিএ-৫ কমেছে
পাসের হারের পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাতেও পতন হয়েছে। ২০২২ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪৭ হাজার ৭৮৭ জন। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১১ হাজার ৪৫০ জনে। ২০২৪ সালে ১১ হাজার ৪০২ জন এবং ২০২৫ সালে ১১ হাজার ৮৪৩ জন জিপিএ-৫ পায়।
এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ৫ হাজার ২৭৫ জন এবং ছাত্র ৪ হাজার ১২৩ জন।
পাহাড়ি জেলাগুলোতেও ফল বিপর্যয়
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পাহাড়ি জেলাগুলোতেও পাসের হারে বড় পতন হয়েছে।
কক্সবাজারে গত বছর পাসের হার ছিল ৭০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এবার তা কমে হয়েছে ৫৭ দশমিক ০৯ শতাংশ। রাঙামাটিতে ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ। খাগড়াছড়িতে ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ। বান্দরবানে ৬৩ দশমিক ১২ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশে।
চট্টগ্রাম মহানগরেও পাসের হার কমেছে। গত বছর মহানগরে পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ০৩ শতাংশ। এবার তা কমে হয়েছে ৭৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ। মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ৭১ দশমিক ২৯ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৫৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। মহানগরসহ পুরো চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ৭৪ দশমিক ৯০ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৬৪ দশমিক ০৩ শতাংশে।
২০২৬ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৮টিতে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১৬৪টি। তবে পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা ২১৯টি থেকে কমে হয়েছে ২১৮টি।
সব মিলিয়ে চলতি বছরের এসএসসি ফলাফলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার, জিপিএ-৫ ও শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়সহ প্রায় সব সূচকেই অবনতি হয়েছে। একই সঙ্গে অকৃতকার্য ও এক বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষা ব্যবস্থার মান ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
