হিজলায় পল্লী বিদ্যুতের লাগামহীন লোডশেডিং ও অনিয়ম: দিশেহারা গুয়াবাড়িয়াসহ ৬ ইউনিয়নের গ্রাহকরা
নিজস্ব প্রতিবেদক, হিজলা (বরিশাল):
বরিশালের হিজলা উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের স্বেচ্ছাচারিতা ও লাগামহীন লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। সাব-স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের খামখেয়ালি এবং বৈষম্যমূলক বিদ্যুৎ বিতরণের কারণে বিশেষ করে গুয়াবাড়িয়া পশ্চিম অঞ্চলসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সাধারণ গ্রাহকরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
দিনরাত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে, অথচ গ্রাহকদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে অস্বাভাবিক ও চ্য্রাগের চেয়ে বহুগুণ বেশি বিদ্যুৎ বিল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হিজলা উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের ছয়টি ইউনিয়নের জন্য সাব-স্টেশনে মোট ছয়টি ফিডার তৈরি করা হয়েছে।
এর মধ্যে কাউড়িয়া বাজার, হিজলা থানা ও উপজেলা সদর সংলগ্ন ফিডার এবং কাজিরহাট থানা কেন্দ্রিক ফিডারে তুলনামূলকভাবে সন্তোষজনক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও অন্য এলাকাগুলোয় চলছে চরম বৈষম্য। এর মধ্যে গুয়াবাড়িয়া পশ্চিম অঞ্চলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। তীব্র গরমে ও বিদ্যুতের এই লুকোচুরিতে শিশু,
বয়স্ক ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ব্যাহত হচ্ছে এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্য। ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, সাব-স্টেশনে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো লোডশেডিং চালিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে হিজলা উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের কর্তব্যরত এজিএম-এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করে সংযোগ কেটে দেন কিংবা বন্ধ রাখেন। এছাড়া সাব-স্টেশনের দায়িত্বে থাকা আবুল বাশারের কাছে
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর না দিয়ে উল্টো গ্রাহকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং খেয়ালখুশি মতো কথা বলে ফোন রেখে দেন। দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের এমন দায়িত্বহীন আচরণ ও অসহযোগিতায় ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বোঝা এবং অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের এই স্বেচ্ছাচারিতা থেকে দ্রুত পরিত্রাণ পেতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিক সমাজ।
