তুচ্ছ বিরোধের জেরে রাঙ্গুনিয়ায় বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ
ছবি: সবার সংবাদ
আব্দুল আজিজ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নে তুচ্ছ একটি বিরোধের জেরে আব্দুল মান্নান (৬২) নামে এক বৃদ্ধকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মোজাম্মেল (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে দায়ী করেছেন নিহতের স্বজনরা।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে বেতাগী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ১০টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আব্দুল মান্নান একই এলাকার হাফেজ বজলুর রহমান বাড়ি এলাকার নূর আহমেদের ছেলে। স্বজনদের অভিযোগ, একই এলাকার মো. ছুফির ছেলে মোজাম্মেলের সঙ্গে বিয়ে সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে নিহতের চাচাতো ভাইয়ের বিরোধ চলছিল।
স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর স্থানীয় বাজারে মোজাম্মেল নিহতের চাচাতো ভাইকে হত্যার হুমকি দেন। এর প্রতিবাদ করলে আব্দুল মান্নানের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি ও পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হলেও বিরোধের জের কাটেনি।
অভিযোগ রয়েছে, রাত ৮টার দিকে এশার নামাজে যাওয়ার পথে অন্ধকারাচ্ছন্ন একটি এলাকায় পৌঁছালে মোজাম্মেল পেছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আব্দুল মান্নানের ঘাড় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করেন। পরে তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তিনি মোজাম্মেল তাকে কুপিয়েছেন বলে জানান বলে দাবি করেন স্বজনরা।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রাউজানের পাহাড়তলী এলাকার একটি স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে নিহতের মরদেহ চমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
নিহতের ছেলে মো. মুন্না বলেন, তার বাবার হত্যাকারীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হোক।
নিহতের স্বজন মো. জাবেরসহ স্থানীয়রা এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত মর্মান্তিক। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহির উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
