যশোরে ১৭ শতক জমি দখল ও প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ: আতঙ্কে ঘরছাড়া ভুক্তভোগী পরিবার
নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর:
যশোরের শার্শা উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের তেবাড়িয়া গ্রামে ১৭ শতক জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টা, নির্মাণাধীন ঘরের ভিত্তি ভেঙে ফেলা, গাছপালা কেটে ফেলা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী জমির দাবিদার আমিরুর ইসলাম মিন্টু (৪৪)। এসব ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছেন তিনি ও তার পরিবার।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর বক্তব্যে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে তেবাড়িয়া গ্রামের ইমান আলী মুন্সির কাছ থেকে ১৭ শতক ধানি জমি ক্রয় করেন আমিরুর ইসলাম মিন্টু। জমি ক্রয়ের পর রাস্তার পাশের একটি বড় গর্ত ভরাট করে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন তিনি। সেই থেকে দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে ওই জমি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন বলে দাবি তার।
আমিরুর ইসলাম জানান, দীর্ঘ সময় জমি নিয়ে কোনো বিরোধ না থাকলেও পরবর্তীতে ইয়াকুব আলী মুন্সি জমির মালিকানা দাবি করে শার্শা জোনাল ও যশোর সেটেলমেন্ট কার্যালয়ে মামলা করেন। পরবর্তীতে সেই মামলার রায় তার (আমিরুর) পক্ষেই আসে। চলতি বছরে জমির পশ্চিম পাশের মালিক মমিনুল হক ও রমজান আলী জমির কিছু অংশ নিজেদের দাবি করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা শুরু করেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ৫ জুলাই এ বিষয়ে মামলা করার পর তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়। সেখানে শারীরিক ও মানসিক চাপ প্রয়োগ করে একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার জমিতে নির্মাণাধীন দুই কক্ষের ঘরের ভিত্তি ভেঙে ফেলা হয় এবং জমিতে থাকা শিশু ও মেহগনিসহ বিভিন্ন গাছপালা কেটে ফেলা হয়। প্রতিবাদ করায় তাকে ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আমিরুর ইসলাম মিন্টু। জীবনের নিরাপত্তাহীনতার কারণে বর্তমানে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘরছাড়া রয়েছেন।
ভুক্তভোগী আমিরুর ইসলাম মিন্টু অভিযোগ করে বলেন, একটি প্রভাবশালী মহলের নেতৃত্ব ও সহযোগিতায় তার জমি দখলের চেষ্টা চলছে। তিনি এ ঘটনায় ডিহি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মুতাসসাম খোকন, লক্ষ্মণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদ, অলিয়ার রহমান সরদার, সাহেব আলী, আশা, লতা, হান্নান ও রওশন মাস্টারের নাম উল্লেখ করে তাদের ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করেন।তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে লক্ষ্মণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মুতাসসাম খোকন বলেন, “আমি বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। ভুক্তভোগী বা অভিযুক্ত যাদের নাম বলা হচ্ছে, তাদের কাউকেই আমি চিনি না। আমার রাজনৈতিক অবস্থান ভিন্ন জায়গায়, অথচ ভিত্তিহীনভাবে আমার নাম জড়ানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, “এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে ভূমি অফিসের রেকর্ড, খতিয়ান, দলিলপত্র এবং আদালতের নথি যাচাই করা জরুরি। পাশাপাশি জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া, ঘরের ভিত্তি ভাঙচুর ও গাছ কাটার মতো অপরাধমূলক ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ আইনগত তদন্ত দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
